খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি, বঙ্গবন্ধুর একক ছবি বাদ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি, বঙ্গবন্ধুর একক ছবি বাদ

আব্দুল মালেক + ছবি: ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইট


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে নতুন করে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি একক ছবি। সংগ্রহশালায় যুক্ত হয়েছে ১৯৬৯ সালের সংঘর্ষে নিহত ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও।

সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের একটি ছবি এবং মৃত্যুর পরের একটি ছবি রাখা হয়েছে। তাঁর ছবির নিচে ডাকসুর দেওয়া ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা সেমিনারে বক্তব্য দেওয়া শেষে ফেরার পথে বিরোধীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।’

১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী সামষ্টিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস সংগ্রহশালায় তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা ইতিহাসের প্রতি দায়।’

কে ছিলেন আব্দুল মালেক

ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেকের বাড়ি বগুড়ায়। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন এবং ফজলুল হক মুসলিম হলে থাকতেন।

ইসলামী ছাত্রসংঘ ছিল তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অনুগত ছাত্রসংগঠন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতায় সংগঠনটির ভূমিকা ছিল। পরবর্তী সময়ে আলবদর বাহিনী গঠনে ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

যে সংঘর্ষে আহত হন মালেক

১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকারের প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। এয়ার মার্শাল এম নূর খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি ঘিরে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

মোহাম্মদ হাননানের ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা সভায় একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা সভাস্থলে ঢুকে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরাও এতে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা শহর ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি আব্দুল মালেক, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইদ্রিস আলী এবং ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু ছিলেন।

দৈনিক আজাদের ১৩ আগস্ট ১৯৬৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে মালেকের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর ছিল। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর।

তবে সমসাময়িক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে আব্দুল মালেককে কে বা কারা প্রাণঘাতী আঘাত করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পর বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

যে শিক্ষানীতি ঘিরে সংঘর্ষ

আব্দুল মালেকের মৃত্যুর ঘটনাটি বুঝতে হলে ১৯৬৯ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকাতে হয়। সে সময় পাকিস্তানে আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন একপর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

একই সময়ে পাকিস্তান সরকার শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এয়ার মার্শাল নূর খানের নেতৃত্বে নতুন শিক্ষানীতির প্রস্তাব তৈরি হয়। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে ‘প্রপোজালস ফর আ নিউ এডুকেশনাল পলিসি’ নামে প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়।

প্রস্তাবটি ছিল জনমত নেওয়ার জন্য প্রকাশিত খসড়া। পরে সংশোধিত শিক্ষানীতি ১৯৭০ সালের মার্চে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে তা কার্যকর করার সুযোগ হয়নি।

নূর খান প্রস্তাবে কী ছিল

নূর খান প্রস্তাবে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের মতো বিষয় ছিল।

তবে শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে প্রস্তাবের অংশটি সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেখানে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামের ধারণা ও নীতির ভিত্তিতে পরিচালনার কথা বলা হয়। পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইসলামিয়াত বা দ্বীনিয়াত বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অমুসলিম শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষার কথাও বলা হয়েছিল।

এ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ইসলামী ছাত্রসংঘ ও ইসলামপন্থী ছাত্রগোষ্ঠীগুলো শিক্ষায় ইসলামি মূল্যবোধের গুরুত্বের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে তৎকালীন ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ এবং বাম ও প্রগতিশীল ছাত্রগোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে বিজ্ঞানভিত্তিক, গণমুখী শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দেয়।

ফলে শিক্ষানীতি নিয়ে বিতর্ক শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে ধর্ম, ভাষা, জাতীয় পরিচয়, পাকিস্তানি রাষ্ট্রচিন্তা ও বাঙালির রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নও যুক্ত হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতার পর আব্দুল মালেকের স্মরণ

আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পর ইসলামী ছাত্রসংঘ তাঁকে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে আন্দোলনের শহীদ হিসেবে স্মরণ করতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরও তাঁর স্মৃতিকে নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরে। সংগঠনটি ১৫ আগস্টকে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে শোকবাণী দিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একটি শোকসভা হয়েছিল বলে ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্ক

ডাকসুর সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়। এর অংশ হিসেবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে।

সংগ্রহশালা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ডাকসুর নেতাদের বক্তব্য, জিন্নাহকে গৌরবান্বিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর ছবি রাখা হয়নি; বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তুলে ধরতেই এসব ছবি রাখা হয়েছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

এরই মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান। পরে ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় নতুন করে যুক্ত হওয়া এসব ছবি ও তথ্যকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ১৯৬৯ সালের ছাত্ররাজনীতি এবং স্বাধীনতার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ছবিতে মতবিনিময় সভা

 সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত  উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ এর  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে  সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে  এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

নবাগত ইউএনও  সেলিম আহম্মেদ জানান, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ বা আয়না। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে এবং স্থানীয় জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সমন্বিত উদ্যোগ জনগণের কল্যাণে কার্যকর অবদান রাখবে। তিনি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভা সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক বাংলার সাঁথিয়া প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক  আব্দুল হাই, সেক্রেটারী ও বাংলাদেশ বুলেটিন এর প্রতিনিধি ফারুক হোসেন,  সাবেক সভাপতি দৈনিক  দিনকালের সাঁথিয়া প্রতিনিধি আলী আহসান মন্জু, দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি  সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদিন রানা, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি সাবেক সভাপতি মানিক মিয়া রানা, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, আর টিভির উত্তর প্রতিনিধি ও আমার দেশ প্রতিনিধি  সহ সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম,  দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মনসুর আলম খোকন, দৈনিক আজকের  কাগজের  প্রতিনিধি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সাবেক সাধারণ সম্পাদক  আবুল কাশেম ও  উজ্জ্বল হোসেন,দৈনিক  ভোরের দর্পনের প্রতিনিধি  সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসিক ইকবাল রাসেল,  দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি  সাহিত্য সম্পাদক আবু ইসহাক, দৈনিক জনতার প্রতিনিধি  কোষাধক্ষ্য আবু সামা, চ্যানেল এস টেলিভিশন এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এম.জে সুলভ, দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি লুৎফর রহমান উল্কা,  আনন্দ টিভির সাঁথিয়া প্রতিনিধি মনোয়ার পারভেজ মানিক,  দৈনিক গণকণ্ঠের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির, দৈনিক বাংলা খবর প্রতিদিনের প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। ছবি যোগফল

মো: সজিব | শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় পান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কেউ গেট খুলতে না আসায় একপর্যায়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
ভেতরে গিয়ে কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাননি বলে জানান তিনি। তবে চারজন স্বাস্থ্য সহকারীকে সেখানে বসে গল্প-আড্ডা দিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন এমপি।
রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “হাসপাতালের গেট দেখে মনে হয়েছে, এই তালা কত বছর আগে লাগানো হয়েছে! তালাটিতে একেবারে মরিচা ধরে গেছে। অনেক সময় অপেক্ষা করে একপাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিকেল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা শহর কিংবা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইনস্পেক্টর হাসান আল মামুন বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের চাবি ভুলবশত বাড়িতে রেখে আসছি।”
অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ করে এমপি সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় নিয়মিত কার্যক্রম ও জনবল সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক